2001: A space Odyssey (1968) সর্বকালের সেরা সায়েন্স ফিকশন ফিল্ম

এটি হোমারের জাত মহাকাব্য” ওডিসি “নয়, এটি সর্বকালের সেরা সায়েন্স ফিকশন ফিল্মের খেতাবপ্রাপ্ত একটি অসাধারন মহাশূন্য ফিল্মি মহাকাব্য!

সেটি স্ট্যানলি কুব্রিক মানুষ চাঁদে যাওয়ার একবছর আগে বানিয়েছিলেন। এত বছর আগে এমন মুভি কিভাবে করা যায়, সেটা হয়ত কুব্রিক সাহেবই বলতে পারবেন। তবে এটি আর্থারক্লার্ক এর একটি গল্প থেকে অনুপ্রাণিত নির্মাণ। তিনি নিজে স্কিপ্ট লিখেছেন।

2001: A space Odyssey

সত্যি বলতে এ ধরনের মাস্টারপিসের রিভিউ লেখার সামর্থ্য আমার নেই কিন্তু সাহস আছে সেটি এই মুভিই আমাকে শিখিয়েছে।

পুরো মুভি দেখলে আপনি দেখবেন এতে চারটি প্লট আছে, আমি এক এক করে নিজের মত ব্যাখ্যা করতে চেয়েছি।

প্রথম প্লটঃ দ্য ডন অব ম্যান
এখানে শুরুতে আপনি দেখবেন কতগুলি প্রাইমেট
( Dudol hominide) মরুভূমিতে জলাশয় নিয়ে অন্য পক্ষের সাথে যুদ্ধ করছে। সন্ধ্যা নেমে গেলে হিংস্র প্রানীর ভয়ে সেখান থেকে দুই দল চলে যায়, ভোরের আলো ফুটলে আবার যথাস্থানে হাজির হয় জলাশয় দখল করার জন্য। এমন সময় নিকষ কালো একটি আয়তাকার বস্তু দেখতে পায় যা হচ্ছে মনোলিথ ( এক ধরনের লোহার চৌম্বকীয় আকরিক)। একদল ভয়ে পিছিয়ে যায় অন্য দল সেটা ছুয়ে দেখতে চাই। এবং সাহস করে ছুয়ে ভয়কে জয় করে এবং আকরিয়ে ধরার কৌশল রপ্ত করে হাড় ধরে অন্য হাড়কে আঘাত করলে যে ভেংগে যায় তা শিখে নেয়। তারপর হাড় দিয়ে অন্য পক্ষকে বিতাড়িত করে জলাশয় দখল করে আনন্দে হাড় আকাশে ছুড়ে মারে।

দ্বিতীয় প্লটঃ
মানুষ এখানে Pre_Homo sapience থেকে আধুনিক হয়েছে। ২০০১ সাল। চাদে গিয়েছে দুটি দল। আমেরিকা আর রাশিয়ার মধ্য কিছু একটা চাপাচাপি হচ্ছে। অনেকে বলছে সেখানে কোন বড় বিপদ হয়েছে আসলে সেখানে আবার মনোলিথের উদয় হয়েছে যা চন্দ্রপৃষ্ঠ খনন করতে গিয়ে পাওয়া যায়। সেটি চন্দ্র থেকে জুপিটারের দিকে রেডিও সংকেত দিচ্ছে।

তৃতীয় প্লটঃ
১৮ মাস পর একদল নভোচারী জুপিটারে যাচ্ছে অভিযানে। এতে ছয়জন নভোচারী আছে। তিন জন ঘুমিয়ে আছে আর দুজন নেভিকেশন করছে। আরেকজন আছে ক্লান্তিহীন হাল ৯০০০ কম্পিউটার যাকে হিউম্যান আর্টিফিশিয়াল হিসাবে দেখানো হয়েছে। যে সব নেভিকেশন লিড করছে। কিন্তু সে ক্রু ডেভ বোম্যানকে বলছে আমাদের অভিযানটা ভাল হচ্ছে না আমার ভয় হচ্ছে দেখ ওরা ঘুমিয়ে পড়ছে।
কিছুক্ষন পর হাল বলে যে বাইরে এন্টেনা বিকল হতে পারে তাই ডিস্কভারি থেকে কেউ পড নিয়ে বাইরে যাক। হালের কথা মত অপর ক্রু পুল পড নিয়ে বাইরে যায় এবং দেখে এন্টেনা ঠিক আছে। পৃথিবীতে হালের জমজ কম্বিনেশন এর কাছে জানতে চাওয়া হল হাল এমন পাঠ কেন দিচ্ছে?
উত্তরে জানা গেল হাল ভুল তথ্য দিচ্ছে। কিন্তু পল ও ডেভের ঠোটের পাঠ হাল বুঝতে পারে তার সে পলকে ডিস্কভারি থেকে সংযোজক খুলে দেয় এবং মেরে ফেলে।এমনকি ঘুমানো অন্য ক্রুদেরও মেরে ফেলে।
ডেভ হালমে সাট ডাউন দিয়ে নতুন কিছু দেখতে পায়।

চতুর্থ প্লটঃ
এখানে ডেব ওয়ার্মহোল ট্রাভেল করে একটি সুন্দর কক্ষে নিজেকে আবিষ্কার করে। এখানে সে নিজের যৌবন ও বাধর্ক্য দেখতে পান। আসলে যাকে বলা হয়েছে স্টার চাইল্ড। “স্টার চাইল্ড “হল মানুষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দিয়ে নিজের সওল বা আত্নাকে শিশুতে নিয়ে যাওয়ার চরম অবস্থা । এখানেই বিজ্ঞান ও আধ্যাত্নিকতা মিশে গেছে এক হয়ে । তারপর বৃ্দ্ধ অবস্থায় বিছানায় শুয়ে ডেভ আবার মনোলিথ দেখতে পান যা আবার রেডিও সংকেত প্রেরণ করছে। এই মনোলিথ কিন্তু ঘরের দরজা।
ডেভ হাত দিয়ে দেখাচ্ছে মনোলিথের ওপারে। আমরা দেখতে পেলাম স্টার চাইল্ড মহাকাশ অভিযান করছে।

এখানে মূলত বিজ্ঞানের শিকড় থেকে শিখড়ে পৌঁছানোর টাইমলাইন দেখানো হয়েছে।

ধন্যবাদ।

2001: A space Odyssey (1968)
Type : Action, Si_Fi, Mystery, Adventure.
Director : Stanley Kubrick

আরো পড়তে পারেন,

Baaghi 2 2018: বলিউড মাসালা মুভি, সাথে দুর্দান্ত একশন ও ড্যাম গুড মিউজিক

The Next Three Days (2010): তিন সদস্যের একটি সুখী পরিবারের গল্প

12 Angry Men (1957) এই মুভি নিয়ে এক শব্দে বলা যায়, অসাধারণ!

Billu Barber 2009: ছোট্ট গ্রাম কিন্ত গ্রামে একেকটা নমুনায় ভরপুর

চলুন দেখে নিই Harry Potter and the Goblet of Fire মুভির মজার তথ্যগুলো

#TEAM MLOBD 🇧🇩

kaspermoviesHollywood Movies Review2001: A space Odyssey (1968) সর্বকালের সেরা সায়েন্স ফিকশন ফিল্ম
2001: A space Odyssey (1968) সর্বকালের সেরা সায়েন্স ফিকশন ফিল্ম এটি হোমারের জাত মহাকাব্য' ওডিসি 'নয়, এটি সর্বকালের সেরা সায়েন্স ফিকশন ফিল্মের খেতাবপ্রাপ্ত একটি অসাধারন মহাশূন্য ফিল্মি মহাকাব্য! সেটি স্ট্যানলি কুব্রিক মানুষ চাঁদে যাওয়ার একবছর আগে বানিয়েছিলেন। এত বছর আগে এমন মুভি কিভাবে করা যায়, সেটা হয়ত কুব্রিক সাহেবই বলতে পারবেন।...